Featured
- Get link
- X
- Other Apps
বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি
বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি।
>
ইতালি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দরজা খুলছে: নিরাপদ অভিবাসনে যৌথ উদ্যোগের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়ান্তেদোসির
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৫ মে:
ইতালি বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
সোমবার (৫ মে) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে প্রধান উপদেষ্টা ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রায় এক ঘণ্টার এ বৈঠকে বৈধ অভিবাসনের নতুন দিগন্ত, কর্মী প্রশিক্ষণ, মানবিক অভিবাসন নীতি এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীরা ইতালিতে সততা, পরিশ্রম ও পেশাগত দক্ষতার জন্য পরিচিত। “আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক প্রশিক্ষিত কর্মী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তা হতে হবে নিরাপদ ও সংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।”
তিনি বলেন, ইতালির অর্থনীতি কৃষি, নির্মাণ ও সেবাখাতের নির্ভরযোগ্য শ্রমশক্তি চায়। এই জায়গায় বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূস অভিবাসনকে ‘সম্ভাবনার দ্বার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “যুব সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে অভিবাসন একটি কার্যকর উপায়। তবে অভিবাসনের প্রতিটি ধাপ হতে হবে মানবিক ও ন্যায্য।” তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মানোন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য উপযুক্ত কর্মী প্রস্তুত করা সম্ভব হয়।
ইতালির নতুন অভিবাসন নীতি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতালি অভিবাসন নীতিতে কিছু ইতিবাচক সংস্কার এনেছে। কোটা পদ্ধতির আওতায় বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৩ সালে ৯,৫০০-এর বেশি বাংলাদেশি বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি জানান, “আমরা চাই একটি টেকসই, ন্যায্য ও লাভজনক অভিবাসন কাঠামো গড়ে তুলতে, যেখানে বাংলাদেশ আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার দেশ হিসেবে থাকবে।”
p>
নিরাপদ অভিবাসন: চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ প্রতিনিয়ত ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান, যার মধ্যে অনেকেই অনিয়মিত পথে যান। এতে একদিকে যেমন মানবিক বিপর্যয় ঘটে, অন্যদিকে দেশীয় ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতালি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।”
অধ্যাপক ইউনূসও এ প্রসঙ্গে বলেন, “অভিবাসনকে শুধুই সংখ্যা হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। তাহলেই তা হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক।”
/p>
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, যারা দিন দিন বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য ইতালির এই আগ্রহ একটি আশার বার্তা। শ্রম ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং চুক্তি বাংলাদেশের অভিবাসন খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই কৃষি, নির্মাণ, গার্মেন্টস, রেস্টুরেন্ট এবং পরিষেবা খাতে কাজ করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ালে আরও বড় আকারে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তা দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শেষ কথা:
ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর ও বক্তব্য বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞজনেরা। নিরাপদ, মানবিক ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দুই দেশ যে একযোগে কাজ করতে চায়, এটি তারই একটি স্পষ্ট বার্তা।
< p>
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment