Featured
- Get link
- X
- Other Apps
পায়রা বন্দরে তিন গুণ বেশি বেতন দেওয়ার বিষয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
পায়রা বন্দরে তিন গুণ বেশি বেতন দেওয়ার বিষয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতনে চমক: ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাসিক আয় ১৫ লাখ টাকা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নজিরবিহীন বেতন কাঠামোর নজির তৈরি করেছে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানি বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড—বিসিপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) মাসিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে আয় ১৫ লাখ টাকার বেশি, যা অন্যান্য সরকারি কিংবা যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।
সরকারি নিয়মের বাইরে ব্যতিক্রমী বেতন কাঠামো
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের জন্য নির্ধারিত একটি সরকারি বেতন কাঠামো রয়েছে, যা সাধারণত সরকারি ও যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেনে চলে। ২০১৬ সালে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার সময় এই কেন্দ্রেও একই কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত একটি বোর্ড সভায় প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন পুনঃনির্ধারণ করে বেশ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যা ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হয়।
বেতন বৃদ্ধির বিশদ বিবরণ
পূর্বের কাঠামোতে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মূল বেতন ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে করা হয় ৭ লাখ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, ট্রান্সপোর্ট, ইউটিলিটি বিল, এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা—ফলে মোট মাসিক বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
শুধু এমডিই নয়, দ্বিতীয় ধাপের (গ্রেড) কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যান্য ভাতা যুক্ত করে এই গ্রেডের কর্মকর্তারাও প্রায় ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত মাসিক বেতন পাচ্ছেন।
বোর্ড সভায় অংশগ্রহণেও ডলারভিত্তিক ভাতা
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রতিটি বোর্ড সভায় অংশগ্রহণের জন্য দেওয়া হচ্ছে ৫০০ মার্কিন ডলার করে ভাতা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা (ডলারপ্রতি ১২০ টাকা ধরে)। অথচ সরকারি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ডলারভিত্তিক ভাতা অনুপস্থিত।
তুলনামূলক চিত্র: অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেতন কাঠামো
সরকারি মালিকানাধীন বা যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা কেউই মাসিক ৫ লাখ টাকার বেশি বেতন পান না। অর্থাৎ, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের এমডির বেতন এই গড় সীমার প্রায় তিনগুণ। একইভাবে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন ও ভাতা মিলিয়েও পায়রার তুলনায় অনেক কম।
বিতর্ক ও প্রশ্ন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কোথায়?
বিদ্যুৎ খাতে নানা সংকট এবং ভর্তুকির চাপ থাকা সত্ত্বেও, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের এই ব্যতিক্রমধর্মী উচ্চ বেতন কাঠামো প্রশ্ন তুলেছে ব্যয় স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিয়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি এবং গ্রাহকের উপর চাপের মধ্যে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ ধরনের উচ্চ বেতন কতোটা যৌক্তিক—তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থায়ন বা যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বা নির্বাচিত গোষ্ঠীর স্বার্থে এভাবে বেতন কাঠামো বাড়ানো হলে সেটি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
p>
- Get link
- X
- Other Apps
Popular Posts
বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment