Featured
- Get link
- X
- Other Apps
খালেদা জিয়া গুলশানের ‘ফিরোজা’য় ফিরে এসেছেন।...
খালেদা জিয়া গুলশানের ‘ফিরোজা’য় ফিরে এসেছেন।...
যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, গুলশানের ‘ফিরোজা’য় গণসংবর্ধনা
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে আজ মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাঁকে রাজধানীর গুলশান এলাকার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই সফরে তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরেন দুই পুত্রবধূ—তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাকালীন সময়ে তাঁরা সব সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁর শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিমানবন্দরে গণজমায়েত ও আবেগঘন পরিবেশ
খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকা ও আশপাশে ছিল বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি। দলীয় কর্মীরা জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। অনেকেই 'গণতন্ত্রের মা' খালেদা জিয়ার জন্য ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে গিয়েছিল। আজ তাঁর ফিরে আসা শুধু ব্যক্তিগত বা দলের জন্য নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা আশা করি তাঁর এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের পথ সহজ করবে।”
রাজনৈতিক ও চিকিৎসা পটভূমি
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন—যার মধ্যে রয়েছে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগসহ আরও বেশ কিছু বয়সজনিত সমস্যা। ২০২১ সাল থেকে তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
দলের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হচ্ছিল যে, দেশে ফিরে খালেদা জিয়া কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং তারপর তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও এখনই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন না, তবু তাঁর প্রত্যাবর্তন বিএনপির ভেতরে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের পটভূমি
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসেন। পরে আরও দুবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নানা চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা। একদিকে তিনি যেমন জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে দুর্নীতির মামলায় কারাভোগ করেছেন, যা নিয়ে দেশব্যাপী রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
তবে তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব গুণে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে অব্যাহতভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দলের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ফিরোজায় পৌঁছার পর নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা
বিকেল নাগাদ গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবনের সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বেশ কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনেকে তাঁকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
শেষ কথা
বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তন নয়—এটি আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এটি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে, একইসঙ্গে বিরোধী জোটের মধ্যে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি করব.
/p>
- Get link
- X
- Other Apps
Popular Posts
বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি
- Get link
- X
- Other Apps





Comments
Post a Comment